এশিয়ার শেয়ারবাজারের অধিকাংশ সূচক গতকাল ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এখনো বাজারে শেয়ারসূচকগুলোর ঊর্ধ্বমুখিতায় প্রভাব রেখে চলেছে। তবে মার্কিন এইচ-১বি ভিসার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাখ ডলার অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রভাবে বাজারে এখনো কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের বড় অর্থনীতি ও এ ভিসার শীর্ষ গ্রাহক দেশ ভারতের শেয়ারবাজার সূচকগুলো ছিল পতনের ধারায়। খবর রয়টার্স ও এপি।
ভারতের শেয়ারবাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসার ওপর বার্ষিক লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণাটির প্রভাব ছিল লক্ষণীয় মাত্রায়। গতকাল এখানকার এনআইএফটি, সেনসেক্স, এনআইএফটি আইটি, বিএসই স্মল ক্যাপ ও বিএসই মিড ক্যাপ সূচক কমেছে যথাক্রমে দশমিক ৪৮ শতাংশ, দশমিক ৬৩, ৩ দশমিক ২২, দশমিক ৭৯ ও দশমিক ৯৩ শতাংশ।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বার্ষিক আয় ২৮৩ বিলিয়ন (২৮ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার, যার অর্ধেকের বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আশঙ্কা করা হচ্ছে, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে অবনতি ও এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধি এ আয়ে বড় ঘাটতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। গত মাসেই ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যে আরোপিত শুল্কহার দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ক্যাপিটালডটকমের আর্থিক বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ‘ভিসা ফি বাড়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য পরিচালন খরচ ও মার্জিন সংক্রান্ত ঝুঁকি বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি কোম্পানিগুলোর মজুরি ও শ্রম খরচ কিছুটা বাড়াতে পারে।’
এদিকে মার্কিন-চীনা বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক সংকেত পাওয়ায় এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটির পুঁজিবাজার এখন কিছুটা স্থিতিশীল পর্যায়ে পেঁৗছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, টিকটক নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন তিনি। অবশ্য এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধি চীনের কর্মীদের জন্যও শঙ্কার খবর।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গতকাল জাপানকে বাদ দিয়ে গঠিত বিস্তৃত আঞ্চলিক সূচক এমএসসিআই বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। জাপানের নিক্কেই ২২৫ বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানের সরকারি বন্ড ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রির আশঙ্কা তৈরি হয়, যদিও এমন কোনো ঘোষণা আসেনি। ওই সময় সূচক নিম্নমুখী হলেও গতকালের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত জোরালো হয়্। এছাড়া দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে।
গতকাল তাইওয়ানের শেয়ারবাজার সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি এএসএক্স ২০০ বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। হংকংয়ে হ্যাং সেং সূচকের ১ শতাংশ পতন হলেও চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের অর্থনৈতিক নীতি ও মার্কিন সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। মার্কিন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে মুদ্রানীতি শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি বছর ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বাকি দুটি বৈঠকে ৪৪ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কর্তন করেছিল এফওএমসি।
মার্কিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক রোববার দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে ছয়টিতে ঊর্ধ্বগতি বজায় রেখেছে। ডাও জোনস ও নাসডাক সূচক বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৪ ও দশমিক ৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি সূচকই সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ফ্রিডম ক্যাপিটাল মার্কেটসের চিফ মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জে উডস বলেন, ‘ট্রেডাররা প্রতিদিন নতুন উচ্চতার দিকে নজর রাখছেন এবং তারা প্রকৃতপক্ষেই ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মনোযোগ দিচ্ছেন।’
এদিকে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশ হবে, যা স্বল্পমেয়াদি সুদহারের গতিবিধি নির্ধারণে সহায়ক হবে। পরামর্শক সংস্থা আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টে মূল পিসিই মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় বাড়তে পারে দশমিক ২ শতাংশ। যদিও বার্ষিক ভিত্তিতে এ মূল্যসূচক বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে জুলাইয়ের মতোই ২ দশমিক ৯ শতাংশে।
তিনি বলেন, ‘যদি এবারের সুদহার কমার চক্রটি স্বল্পমেয়াদি হয়, তবুও এটি মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ডলারের শর্ট ট্রেড (যেখানে বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বিনিময় হার কমবে) থেকে এখন অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাসে ডলার সূচকের গতি ছিল নিম্নমুখী, তবে তা এখন বাড়ছে।’